এবার পুজোয় লাটাগুড়িতে বেড়াতে আসুন
![]() |
লাটাগুড়ি ফরেস্ট |
ডুয়ার্সের জঙ্গলের সুন্দর্য উপভোগ করার জন্য এইবার পুজোয় লাটাগুড়িতে বেড়াতে আসুন। সুন্দর মনোরম পরিবেশে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এবং সুন্দরী নেওরা নদীর রূপে মুগ্ধ হতে মনে শান্তি আর পরিবারে খুশি এবং শরীর কে একটু আরাম দিতে একবার লাটাগুড়ি ঘুরে যান। চারিদিকে সবুজে ঘেরা চা বাগান যেন লাটাগুড়িকে আরো অপরূপ সুন্দরী করেছে। ডুয়ার্সের নানা জায়গা ঘুরতে একমাত্র লাটাগুড়ি এমন জায়গা যেখানে থেকে সহজে অল্প পরিমাণ অর্থ ব্যায় করে ঘুরে নিতে পারেন।
এখানে গারুমারা জাতীয় উদ্যান, জলদাপারা জাতীয় উদ্যান, চাপ্রামারি অভয়ারণ্য ঘুরে আসুন একসাথে অল্প খরচে লাটাগুড়ি থেকে। এছাড়াও আপনি পাহাড়েও যেতে পারেন এখান থেকে। তাই তো লাটাগুড়িকে বলা হয় ডুয়ার্সের কেন্দ্রবিন্দু।
![]() |
চা বাগান |
লাটাগুড়িতে কি কি দেখার আছে?
গরুমারা জাতীয় উদ্যান গেট |
লাটাগুড়িতে রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্য প্রকৃতি, যা দেখার জন্যে দুর দিগন্তের পর্যটকরা এখানে আসে। গরূমারা জাতীয় উদ্যানের অসাধারন সুন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে দেবে। এছাড়া এখানকার জনপ্রিয় জঙ্গল সাফারি যা পরিচয় করিয়ে দেবে প্রকৃতির বিভিন্ন গাছপালা ও বন্য প্রাণীদের সাথে। শাল, সেগুন, গামারী, লালি, চিকিরাশি, মেহগনি ইত্যাদি গাছপালা ও এক শৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, বাইসন, হরিণ ও আরো নানা প্রজাতির জীব জন্তু এখানে দেখতে পাবেন। নানা প্রজাতির পাখি ও কিং কোবরা সহ আরো ১৮ প্রজাতির সাপ রয়েছে এই জাতীয় উদ্যানে।
![]() |
গারূমারা জাতীয় উদ্যান |
লাটাগুড়ি জঙ্গল সাফারি কি ভাবে করবেন?
![]() |
৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক |
লাটাগুড়িতে জঙ্গল সাফারির দুটি টিকেট কাউন্টার রয়েছে প্রথমটি লাটাগুড়ি নেওড়া মরে যেখান থেকে আপনি সকল ফরেস্ট টাওয়ার দেখতে পারবেন। এবং দ্বিতীয় কাউন্টার টি হলো লাটাগুড়ি বাজারে রেঞ্জ অফিসের কাছে লাগোয়া। এই কাউন্টার থেকে আপনি শুধুমাত্র জঙ্গল সাফারির টিকিট পাবেন। কোনো দালাল চক্রে পড়বেন না নিজে থেকে লাইন এ দাড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করুন। খোলা হুডের জীপে করে সুদক্ষ গাইডের সাহায্যে জঙ্গলের অপরূপ সৌন্দর্য উপোভোগ করুন।
![]() |
এক শৃঙ্গ গন্ডার |
লাটাগুড়িতে পুজোর চমক:
লাটাগুড়িতে তিন কিলমিটার এরিয়ার মধ্যে সাত থেকে আট টি পুজো হয়। পুজোর প্যান্ডেল যদিও বেশি বাজেটের হয় না কিন্তু বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেমন এখানকার জনপ্রিয় আদিবাসী নৃত্য। আঞ্চলিক ভাষায় রচিত বিভিন্ন নাটক, এছাড়া অর্কেস্ট্রা, বাংলা ব্যান্ড গানের প্রোগ্রাম এখানে ভিড়ের উৎস। পুজোয় প্রচুর পর্যটক লাটাগুড়িতে ঘুরতে আসে এবং গ্রামীণ পুজো উপভোগ করে।
লাটাগুঁড়িতে থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা কেমন?
![]() |
রিসর্ট সোনারগাঁও |
![]() |
রিসোর্ট সোনারগাঁও এর বেডরুম |
লাটাগুঁড়িতে থাকা খাওয়া তা এখানে না এলে বুঝতে পারবেন না। লাটাগুড়ি এমন একটি জায়গা যেখানে ছোটো বড় মিলিয়ে কমপক্ষে একশোর বেশি রিসোর্ট আছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ড্রিমল্যান্ড, সোনার বাংলা, সওদাগর, হাতিহানা, ইউনিক, গজগামিনি, তাছাড়া নদীর তীরে অবস্থিত রিসোর্ট সোনার গাঁও, গ্রীন টাচ্ ইত্যাদি এই সকল রিসোর্ট এ খাওয়ার ও রাত্রযাপন ব্যাবস্থা রয়েছে। এছাড়া লাটাগুড়ি বাজারে বৌদির হোটেল, শুক্লা বৌদির হোটেল ও পঞ্চব্যাঞ্জন এই সব হোটেলে খেতে পারেন অসাধারন রান্না ও স্বাদ একদম সুলভ মুল্যে।
লাটাগুড়িতে ট্রাভেলিং সুবিধা
লাটাগুড়িতে এসে আপুনি যে রিসোর্ট এ উঠবেন সেখানেই আপুনি গাড়ি পেয়ে যাবেন সকল ডেস্টিনেশন ঘুরতে, তাছাড়া আপুনি ইচ্ছে করলে প্যাকেজ টুর ও বুক করে নিতে পারেন। রিসোর্ট খাওয়া ও ঘোরা আপনকে স্টেশন থেকে পিক-আপ করে সম্পূর্ন ভ্রমণ শেষ করে আবার স্টেশনে পৌঁছে দিবে অনেক কম খরচে।
কি ভাবে আসবেন লাটাগুড়ি?
NJP রেল স্টশন থেকে ভায়া গজলডোবা হয়ে টেক্সী করে
লাটাগুড়ি, আবার যারা এয়ারপর্ট থেকে আসবেন তারাও ভায়া গজলডোবা হয়ে টেক্সী করে আসবেন। শিলিগুড়ি জংশন স্টেশন থাকে দুটি ট্রেন আসে লাটাগুড়িতে একটা সকল ১০ টার সময় আর একটা বিকেল ৪ টের সময় ছাড়ে লাটাগুড়ির জন্যে। যারা কাঞ্চনকন্যা ট্রেন ধরে আসবে তারা নিউ মাল স্টেশনে নেমে টেক্সী কিংবা বাসে লাটাগুড়ি আস্তে পারেন। এবার শিলিগুড়ি জংশন বাস টার্মিনাল থেকে বাসে ভায়া ময়নাগুড়ি হয়ে আবার শিলিগুড়ি মিত্তাল বাস টার্মিনাল থেকে ভায়া মাল চলসা হয়ে লাটাগুড়ি আসতে পারেন।
রিসোর্ট সোনারগাঁও এর কিছু ফটোগ্রাফ
![]() |
রিসোর্ট সোনারগাঁও |
![]() |
কটেজ |
![]() |
গার্ডেন |
![]() |
সম্পূর্ন আধুনিক কটেজ |
![]() |
কটেজের পেছনের ভিউ |
![]() |
কটেজের উপরের ভিউ |
লাটাগুড়ির কিছু ফটোগ্রাফ দেখার জন্যে এখানে ক্লিক করুন
0 মন্তব্যসমূহ