কেনো কি ভাবে লাটাগুড়িতে আসবেন || কি কি দেখবেন কোথায় থাকবেন || ডুয়ার্সের এক গুরু্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র লাটাগুড়ি প্রকৃতির কোলে একটি মনোরম পর্যটন গন্তব্য

কেনো কি ভাবে লাটাগুড়িতে আসবেন
Neora River Sunset


 কেনো কি ভাবে লাটাগুড়িতে আসবেন || কি কি দেখবেন কোথায় থাকবেন || ডুয়ার্সের এক গুরু্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র লাটাগুড়ি 

প্রকৃতির কোলে একটি মনোরম পর্যটন গন্তব্য
Beauty Of Neora River


লাটাগুড়ি: প্রকৃতির কোলে একটি মনোরম পর্যটন গন্তব্য

পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার এক শান্ত, সবুজে ঘেরা গ্রাম হলো লাটাগুড়ি। এই স্থানটি ডুয়ার্স অঞ্চলের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, বিশেষ করে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য। লাটাগুড়ি মূলত গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত, যা প্রকৃতির সৌন্দর্য, বন্যপ্রাণী এবং দারুণ আবহাওয়ার জন্য বিখ্যাত।

 লাটাগুড়ির ভূগোল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

লাটাগুড়ি সবুজ পাহাড়, নদী এবং ঘন অরণ্যের এক অবিচ্ছেদ্য মিশ্রণ। এটি তিস্তা এবং তোর্সা নদীর তীরে অবস্থিত। এই এলাকা জঙ্গল সাফারি এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। লাটাগুড়ির কাছাকাছি বিভিন্ন নদী, যেমন তিস্তা ও তোর্সার সংস্পর্শে আসার ফলে গ্রামটির প্রাকৃতিক পরিবেশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠেছে।

গরুমারা জাতীয় উদ্যান

লাটাগুড়ির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো গরুমারা জাতীয় উদ্যানউদ্যানটি মূলত গণ্ডার, হাতি, চিতাবাঘ, বাইসনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। উদ্যানের ভিতরে জঙ্গল সাফারি করতে পারা ভ্রমণকারীদের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। গাইডের সাহায্যে জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করে প্রাণীদের স্বাভাবিক পরিবেশে দেখা যায়।

 

লাটাগুড়ির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো গরুমারা জাতীয় উদ্যান
গরুমারা জাতীয় উদ্যান

কী করবেন লাটাগুড়িতে?

১. জঙ্গল সাফারি: ভোরবেলা বা সন্ধ্যায় জঙ্গল সাফারিতে গিয়ে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখা এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা অনবদ্য।

২. মহানন্দা ও চাপড়ামারি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ভ্রমণ: লাটাগুড়ি থেকে কিছু দূরে অবস্থিত এই দুটি অভয়ারণ্যও বন্যপ্রাণী প্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য। এখানে হরিণ, গণ্ডার, হাতি এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়।

৩. ট্রেকিং এবং প্রকৃতির ছোঁয়া: লাটাগুড়ির চারপাশে পাহাড় এবং জঙ্গল ট্রেকিং এর জন্য উপযুক্ত। কিছু সুন্দর ট্রেইল আপনাকে ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ করে দেবে।

৪. টোটোপাড়া এবং লেপচাখা ভ্রমণ: স্থানীয় টোটো এবং লেপচা উপজাতিদের জীবনধারা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার জন্য এই দুটি গ্রাম ঘুরে দেখা যেতে পারে।

থাকার ব্যবস্থা

লাটাগুড়িতে বিভিন্ন রিসর্ট এবং হোমস্টে রয়েছে যেখানে ভ্রমণকারীরা স্থানীয় খাবার এবং অতিথিসেবার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। এখানকার হোটেলগুলি বেশ আরামদায়ক এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকার জন্য উপযুক্ত। 

কিভাবে পৌঁছাবেন

লাটাগুড়ি পৌঁছানোর জন্য নিকটতম রেলস্টেশন হলো নিউ জলপাইগুড়ি (NJP)। এখান থেকে গাড়িতে প্রায় ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টার পথ। এছাড়াও, বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকেও লাটাগুড়ি আসা যায়। সড়কপথেও কলকাতা এবং শিলিগুড়ি থেকে সহজে লাটাগুড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

সেরা সময়

লাটাগুড়ি ভ্রমণের সেরা সময় হলো শীতকালে, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং বন্যপ্রাণী দর্শনের উপযুক্ত পরিবেশ থাকে।

উপসংহার

লাটাগুড়ি একদিনের জন্য শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার এক আদর্শ স্থান। সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য, শান্ত পরিবেশ, এবং বন্যপ্রাণীর সান্নিধ্যে কিছুদিন কাটানো মানে সত্যিকারের মানসিক প্রশান্তি। যারা প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণী ভালোবাসেন, তাদের জন্য লাটাগুড়ি নিঃসন্দেহে একটি আদর্শ গন্তব্য।


লাটাগুড়ির কাছাকাছি ঘোরার জায়গা
Neora Tea Estate


আরো জানুন 

লাটাগুড়ির সেরা হোটেল

লাটাগুড়ির বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

লাটাগুড়ির ট্যুর প্ল্যান

লাটাগুড়ির রিসর্ট বুকিং

লাটাগুড়ি ভ্রমণের খরচ

লাটাগুড়ি সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবন

লাটাগুড়ির কাছাকাছি ঘোরার জায়গা

লাটাগুড়ির বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ রিসর্ট

লাটাগুড়ির জনপ্রিয় রিসর্ট ও হোটেল

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ