জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান | ডুয়ার্স পর্যটন | জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ | Jaldapara National Park | jaldapara national park is famous for
![]() |
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরবঙ্গে তথা আলিপুরদুয়ার জেলার পুর্ব হিমালয় পর্বত পাদদেশে অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান জলদাপাড়া জাতিয় উদ্যান। প্রায় ১৪১ বর্গ কিলোমিটার ও সমুদ্র ভূমি থাকে প্রায় ৬৫ মিটার উচ্চতায় তোর্সা নদীর তীরে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যে। অতুলনীয় রূপসী বাংলায় প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক এই সবুজে ভরা তৃণভূমি একটি নদীকেন্দ্রিক বনাঞ্চল। পৃথিবীর প্রায় অবিলুপ্তপ্রায় প্রানী এক শৃঙ্গ গন্ডার এখানকার জনপ্রিয় পশু। ১৯৪১ সালে এই বনাঞ্চল জলদাপাড়া একটি অভয়ারণ্যে ঘোষিত হয়।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাণী ও উদ্ভিদ।
Jaldapara Wild Animal |
জলদাপাড়া প্রধানত লম্বা এলিফ্যান্ট ঘাস বিশিষ্ট সাভানা বনাঞ্চল এখানকার প্রধান আকর্ষন এশীয় এক শৃঙ্গ গন্ডার। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের পর এই অভয়ারণ্যে গন্ডারের সর্বাধিক সংখ্যা দেখা যায়।
এই অভয়ারণ্যে বসবাসকারি অন্যান্য বন্য প্রাণী হল বেঙ্গল টাইগার, হাতি, চিতল হরিণ, সম্বার হরিণ,মায়া হরিণ, বুনো শুকর, হগ ডিয়ার ও গৌড়।
জালদাপাড়া অভয়ারণ্যে পাখিদের মধ্যে উল্লখযোগ্য হল বেঙ্গল ফ্লোরিক্যান, ক্রেস্টেড ঈগল, পালাস'স ফিশিং ঈগল দেখা যায়। এছা়াও রয়েছে ময়ূর, তোতা, লেসার হর্নবিল ইত্যাদি পাখিরা এই অভয়ারণ্যে বাসকরে।
এখনকার সরীসৃপ প্রানী হলো অজগর, গিরগিটি, কোবরা, ক্রেট, গিকোস ও ৮ প্রজাতির কচ্ছপ দেখা যায়।
পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ
গরুমারা জাতীয় উদ্যানের মত এখানেও তিন মাস বন্ধ থাকে এই সময় এখেনকার প্রানীদের প্রজনন সময়ের জন্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এখনকার বিশেষ আকর্ষণ হলো হাতির পিঠে জঙ্গল সাফারি, টোটোপাড়ার ও চিলাপাতা বনাঞ্চলের অপরূপ সৌন্দর্য।
এলিফ্যান্ট সাফারি:
![]() |
Elefant Safari |
জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে বিশেষ আকর্ষণ হলো এলিফ্যান্ট সাফারি। এখানে হাতির পিঠে চড়ে গভীর জঙ্গলের বিভিন্ন জীবজন্তু দেখা যায়। এখনকার সবুজে ঘেরা তৃণভূমিতে এক শৃঙ্গ গন্ডার, হাত, এছাড়া আরো অন্যান্য জীবজন্তু দেখা যায়। এলিফ্যান্ট ছাড়াও জীপ সাফারির ব্যবস্থাও করা আছে।
টোটোপাড়া
![]() |
Totopara |
চিলাপাতা বনাঞ্চল
![]() |
Chilapata Jaldapara |
প্রায় ১৫০০ বছর আগে নির্মিত (পঞ্চম শতাব্দী গুপ্তযুগের) নল রাজার দুর্গ এই চিলাপাতা অরণ্যে অবস্থিত। ঐতিহাসিক এই দুর্গের একটি দরজা ও ভগ্নদশা প্রাচীরই বর্তমানে অবশিষ্ট। এই দুর্গের আসে পাশে এক ধরনের গাছ দেখা যায় যা কাটলে মানুষের রক্তের মত লাল রঙের তরল পদার্থ বের হয়। এই গাছটি নাম ও অনোত্র কোথাও আছে বলে কোনো হদিশ মেলেনি।
0 মন্তব্যসমূহ